এই পোস্টির মাধ্যমে আওয়াবিন নামাজের ফজিলত সম্পর্কে আলোচনা করা হবে, মুসলমানদের জন্য সবচেয়ে উত্তম এবাদত হচ্ছে ফরজ এবাদতগুলো, ফরজ ইবাদাত গুলো অন্য সব ইবাদতের থেকে অনেক উত্তম। ফরজ ইবাদত গুলো আদায় করার পরে যারা নফল সুন্নত ওয়াজিব এবাদত গুলো আদায় করে তাদের জন্য রয়েছে আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে অনেক বড় পুরস্কার। নফল ইবাদত গুলোর মাধ্যমে আল্লাহ তাআলার নৈকট্য ও সন্তুষ্টি অর্জন করা যায়।
ফরজ সুন্নত ও ওয়াজিব নামাজ গুলোর পরে নফল নামাজের গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি, আওয়াবিন নামাজ হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ একটি নফল নামাজ। আল্লাহ তাআলা জিন ও ইনসানকে সৃষ্টি করেছে তার ইবাদত করার জন্য যারা তার ইবাদত করবে তারা হচ্ছে শ্রেষ্ঠ। ইবাদতের মধ্যে সর্বোত্তম ইবাদত হল নামাজ। ফরজ নামাজের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ নামাজ হচ্ছে নফল সুন্নত ওয়াজিব নামাজগুলো। আর আওয়াবিন নামাজ হচ্ছে নফল নামাজ।
আওয়াবিন নামাজ কী এবং কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ?
আওয়াবিন নামাজ হলো মূলত একটি নফল নামাজ এই নামাজটি মাগরিবের নামাজের পর পড়তে হয়। আমাদের ফরজ ইবাদতগুলোতে যে সমস্ত ভুল ত্রুটি গুলো থাকে সেগুলো নফল নামাজের মাধ্যমে বা নফল ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা পূরণ করে দেন। নফল ইবাদত বেশি বেশি করলে আল্লাহ তাআলার নৈকট্য লাভ করা যায় আওয়াবিন নামাজ আল্লাহ রাসুল সাঃ পড়েছেন সাহাবীরা পড়েছেন অলি আউলিয়ারও পড়েছেন। তাই আমরাও আওয়াবিন নামাজ পড়ার চেষ্টা করব।
মাগরিবের পর সময়টি এমন একটি সময় যে সময়ে মানুষ সাধারনত দুনিয়ার কাজ কামে ব্যস্ত হয়ে পড়ে ঠিক ওই সময়টাতে আল্লাহর এবাদত করলে আল্লাহ তায়ালা খুশি হন আল্লাহ সন্তুষ্টি অর্জন করা যায়। খুব সহজে এবং অন্তরের মধ্যে আল্লাহ ভীতি সৃষ্টি হয় ।ভালো কাজ করার ইচ্ছে পোষণ হয় ।এই কারণে ওলামায়ে কেরামগণ মাগরিবের নামাজের পর নফল নামাজের প্রতি উৎসাহ দিয়েছেন। এর ফলে অন্তরে আল্লাহর স্মরণে সময় কাটানোর অভ্যাস গড়ে ওঠে।
আওয়াবিন’ শব্দের অর্থ ও তাৎপর্য
আওয়াবীন শব্দটি হল আরবি শব্দ যার বাংলা অর্থ হল আল্লাহ তাআলার দিকে বারবার ফিরে আসা বা তওবাকারি বান্দা। এই নামটি দেওয়ার মাধ্যমে মূলত বুঝানো হয়েছে আল্লাহ তাআলার যে বান্দা হাজারো গুনাহ করার পরেও আল্লাহর কাছে ফিরে আসে এবং গুনাহ থেকে বাঁচার চেষ্টা করে এবং ইবাদতের মাধ্যমে নিজেকে সংশোধন করার চেষ্টা করে ।
নফল নামাজের সঙ্গে এবং নফল ইবাদতের সঙ্গে তওবার গভীর সম্পর্ক রয়েছে। কারণ নফল ইবাদত মানুষের আত্মাকে শুধরাতে সহযোগিতা করে। এবং আল্লাহর সামনে বিনয়ী করে তোলে। আওয়াবিন নামাজ সে ধরনের একটি ইবাদত যা বান্দাকে দুনিয়ামুখী থেকে ফিরিয়ে আল্লাহর দিকে নিয়ে আসে। এসব দিক গুলো বিবেচনা করে আওয়াবিন নামাজের গভীর তাৎপর্য রয়েছে।
আওয়াবিন নামাজের ফজিলত সমূহ
হযরত মুহাম্মদ ইবনে আম্মার রাযিআল্লাহু তা’আলা আনহু হতে বর্ণিত তিনি বলেন আমি আমার পিতাকে দেখেছি মাগরিবের পর দুই রাকাত আওয়াবিন নামাজ পড়তেন, এবং তিনি বলতেন আমি আমার প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছি তিনি মাগরিবের পর ছয় রাকাত আওয়াবিন নামাজ পড়তেন। হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে ব্যক্তি মাগরিবের পর ছয় রাকাত আওয়াবিন নামাজ পড়বেন আল্লাহতালা তার সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দিবেন যদিও তা সমুদ্রের প্যানা পরিমাণ হয়।
হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু হতে বর্ণিত তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি মাগরিবের পরে ছয় রাকাত আওয়াবিন নামাজ পড়বে, আর যদি মাঝখানে কোন দোনিয়বি কথা না বলে, তাহলে তা ১২ বছর ইবাদতের সমপরিমাণ বলে গণ্য হবে।
হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহা হতে বর্ণিত তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি মাগরিবের পরে ২০ রাকাত নফল নামাজ পড়বে আল্লাহ তা’আলা তার জন্য বেহেশতে একটি ঘর বানাবেন অর্থাৎ সে বেহেশতে প্রবেশ করবে।
হযরত হাসান বসরী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলতেন মাগরিব এবং এশা এর মধ্যবর্তী সময়ের নামাজ রাতের নামাজ বা তাহাজ্জুদের নামাজ বলে গণ্য হবে। আওয়াবিন নামাজ ও অন্যান্য নফল নামাজে দীর্ঘ কেরাত দীর্ঘ রুকু এবং দীর্ঘ সেজদা করা উত্তম। আল্লাহ তাআলা আমাদের প্রত্যেককে মাগরিবের পরে আওয়াবিন নামাজ পড়ার তৌফিক দান করুন, আওয়াবিন নামাজের ফজিলত বুঝে আমল করার তৌফিক দান করুন। আমিন
আলেমদের দৃষ্টিতে আওয়াবিন নামাজ
আলেমদের দৃষ্টিতে আওয়াবিন নামাজ হলো মাগরিবের পরে আদায়কৃত একটি নফল নামাজ।অনেক আলেমরা বলেছেন এটি আলাদা কোন বাধ্যতামূলক নামাজ নয়। বরং এটি একটি সাধারণ নফল নামাজের অন্তর্ভুক্ত। তবে আলেম-ওলামারা এই কথা ও স্বীকার করেন যে মাগরিবের পর নফল নামাজ আদায়ের ব্যাপারে উৎসাহ মূলক কিছু বর্ণনা হাদিসের কিতাবে পাওয়া যায়। সে কারণে মাগরিবের পর আওয়াবিন নামাজ আদায় করা ফজিলতপূর্ণ আমল হিসেবে বিবেচিত।
এ বিষয়ে আলেমদের মধ্যে ঐকমত্য রয়েছে যে, কেউ যদি মাগরিবের পর আওয়াবিন নামাজ হিসেবে নফল নামাজ আদায় করে, তবে আল্লাহ তায়ালা তার ওপর বিশেষ অনুগ্রহ ও রহমত দান করেন,ইনশাআল্লাহ। যেহেতু এটি নফল ইবাদত, তাই বান্দা যখন স্বেচ্ছায় ও একনিষ্ঠতার সঙ্গে এ নামাজ আদায় করে, তখন আল্লাহ তায়ালা এতে সন্তুষ্ট হন।
আরো পড়ুন >> ইশরাকের নামাজের ফজিলত ও উপকারিতা
আওয়াবিন নামাজ সম্পর্কে প্রচলিত ভুল ধারণা
আওয়াবিন নামাজ সম্পর্কে অনেকের মনে কিছু ভুল ধারণা আছে, অনেকে মনে করে এই নামাজটি বাধ্যতামূলক আদায় করতে হবে অন্যান্য ফরজ নামাজের মত। আদায় না করলে গুনাগার হবে। এই ধারণাটি সম্পূর্ণ ভুল এবং অতিরঞ্জিত। অন্যান্য নফল নামাজের মত আওয়াবীনের নামাজ পড়ার জন্য নির্দিষ্ট কোন সূরা বা কেরাত নেই। অন্যান্য নফল নামাজ গুলোর মত আওয়াবীনের নামাজ একটি নফল নামাজ।
অনেকে মনে করেন কেবল শুধু আওয়াবিনর নামাজ পড়লে তার সব গুনাহ মাফ হয়ে যাবে। প্রকৃতপক্ষে গুনাহ মাফের বিষয়টি আল্লাহ তায়ালার ইচ্ছায় হয়ে থাকে। গুনাহ মাফ হলো বান্দার তাওবা ও আমলের উপর নির্ভরশীল। আল্লাহ তায়ালা যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করে দেন আল্লাহতালা অসীম দয়ালু এবং মেহেরবান।
আওয়াবিনের নামাজ কত রাকাত পড়া উত্তম
প্রতিদিন মাগরিবের পরে মাগরিবের দুই রাকাত সুন্নত আদায় করার পর কমপক্ষে দুই রাকাত থেকে ২০ রাকাত পর্যন্ত আওয়াবিনের নামাজ পড়া যায়। তবে উত্তম হচ্ছে কমপক্ষে ছয় রাকাত আওয়াবীনের নামাজ পড়া। আওয়াবিনের নামাজ পড়ার নিয়ম হচ্ছে দুই রাকাত দুই রাকাত করে ছয় রাকাত পড়া। যেকোনো সূরা দিয়ে আওয়াবিনের নামাজ পড়া যায়। অন্যান্য সুন্নত ওয়াজিব নফল নামাজের মত প্রত্যেক রাকাতে সূরা ফাতেহা পড়ে তার সাথে যে কোন একটা সূরা মিলাতে হবে।
প্রত্যেক মুসলমানের উচিত ফরজ ইবাদত গুলোর পাশাপাশি কিছু নফল ইবাদত করা আর নফল ইবাদত গুলোর মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালার নকট্য অর্জন করা যায়, তেমনিভাবে আওয়াবিন নামাজের ফজিলত অনেক বেশি আওয়াবিন নামাজ হচ্ছে একটা নফল ইবাদত আর এইনফল ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহ তা’আলা অনেক খুশি হন, তাই আমাদের প্রত্যেকের উচিত প্রতিদিন মাগরিবের পর আওয়াবিনের নামাজ পড়া।
আল্লাহ তায়ালা প্রত্যেক মুসলমান নর-নারীকে ফরজ নামাজ আদায় করার পাশাপাশি নফল ইবাদত গুলো আদায় করার তৌফিক দান করেন বিশেষ করে প্রতিদিন মাগরিবের পরে কমপক্ষে ছয় রাকাত আওয়াবিন নামাজ পড়ার তৌফিক দান করেন আমরা সকলে চেষ্টা করব প্রতিদিন মাগরিবের নামাজের পরে দুনিয়াবী কোন কথাবার্তা না বলে ছয় রাকাত আওয়াবীনের নামাজ পড়ার দুই রাকাত দুই রাকাত করে তিন সালামে মোট ছয় রাকাত নামাজ
আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে আওয়াবিন নামাজের ফজিলত সম্পর্কে জেনে শুনে আমল করার তৌফিক দান করুন আমিন
আরো পড়ুন >>বিপদের সময় দোয়া ইউনুস এর আমল ও ফজিলত: এবং কষ্টের সময় পড়ার বিশেষ উপকারিতা
FOjilot Of Surah Islamic website
