হতাশা ও দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তির দোয়া

হতাশা ও দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তির দোয়া: সহজ ও কার্যকর উপায়

সুচিপত্র

আপনি কি কখনো গভীর হতাশা ও দুশ্চিন্তার মধ্যে আটকে পড়েছেন? মনে হয় যেন সবকিছু ধ্বংস হতে চলেছে আর কোনো পথ নেই মুক্তির। এই মানসিক চাপের থেকে মুক্তি পাওয়া সহজ নয়, কিন্তু অসম্ভবও নয়। আপনি যদি সত্যিই শান্তি ও স্বস্তির খোঁজে থাকেন, তাহলে হতাশা ও দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তির দোয়া  আপনার জীবনে আলোর সঞ্চার করবে। এই দোয়াগুলো শুধু শব্দ নয়, এগুলো হৃদয়কে শক্তি দেয়, মনকে প্রশান্ত করে এবং হতাশার অন্ধকার থেকে বের করে আনে। এখনই পড়া শুরু করুন এবং দেখুন কিভাবে আপনার জীবন বদলে যেতে পারে।

দোয়ার গুরুত্ব

দোয়া হল মানুষের জীবনে এক অমূল্য শক্তি। হতাশা ও দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি পেতে দোয়ার গুরুত্ব অপরিসীম। দোয়া হৃদয়কে শান্তি দেয় এবং মনকে শক্তিশালী করে। এটি আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করে এবং মনোবল জোরদার করে।

যখন মানুষ দোয়া করে, তখন সে আল্লাহর কাছে আশ্রয় নেয়। এই আশ্রয় মানুষের মানসিক চাপ কমায় এবং জীবনের কঠিন সময়ে সহায়তা করে। দোয়া মানে শুধু প্রার্থনা নয়, এটি একটি অন্তরের যোগাযোগ। তাই দোয়া হৃদয়ের এক ধরনের সান্ত্বনা।

দোয়া মানসিক শান্তির উৎস

দোয়া মনকে প্রশান্তি দেয়। হতাশা ও দুশ্চিন্তার সময়ে দোয়া করলে মন শান্ত হয়। এটি মনের অস্থিরতা কমায় এবং ইতিবাচক চিন্তা জন্মায়। দোয়া দিয়ে উদ্বেগ দূর হয় এবং আশা জাগে।

আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা

দোয়া আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়ার একটি মাধ্যম। এটি মানুষের দুর্বলতা স্বীকার করার প্রমাণ। দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর রহমত কামনা করা হয়। প্রত্যেক সংকট থেকে উত্তরণের জন্য আল্লাহর কাছে হাত বাড়ানো হয়।

দোয়া আত্মবিশ্বাস এবং ধৈর্য গড়ে তোলে

দোয়া মানুষকে ধৈর্য ধারণে সাহায্য করে। এটি আত্মবিশ্বাস বাড়ায় এবং সংকট মোকাবিলায় শক্তি দেয়। নিয়মিত দোয়া জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনে। হতাশার মাঝে দোয়া শক্তি যোগায়।

প্রধান মুক্তির দোয়া

প্রধান মুক্তির দোয়া হল হতাশা ও দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তির একটি শক্তিশালী উপায়।

এই দোয়া পাঠ করলে মন শান্ত হয়। জীবনের ঝঞ্ঝাট কমে।

আল্লাহর কাছে সাহায্যের জন্য এই দোয়া খুবই কার্যকর।

দোয়ার উচ্চারণ

আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল হাম্মি ওয়াল হাযান, ওয়াল আজযি ওয়াল কাসাল, ওয়াল জুবনি ওয়াল বুখল, ওয়া দালাইদ দাইন ওয়া গালাবাতির রিজাল।

এই দোয়ায় হতাশা, দুশ্চিন্তা, অলসতা ও অন্য নেতিবাচক অনুভূতি থেকে মুক্তি চাওয়া হয়।

অর্থ ও গুরুত্ব

অর্থ হচ্ছে, “হে আল্লাহ, আমি আপনার আশ্রয় চাই দুশ্চিন্তা ও দুঃখ থেকে।”

দোয়াটি পড়লে মনোবল বাড়ে এবং জীবনের বোঝা হালকা হয়।

দোয়া পাঠের নিয়ম

রোজ সকালে ও রাতে নিয়ম করে পাঠ করলে ভালো ফল মেলে।

বিশ্বাস ও ধৈর্য ধরে পাঠ করলে আল্লাহর সাহায্য পেতে সাহায্য করে।

সুন্দর তেলাওয়াতের প্রভাব

সুন্দর তেলাওয়াত হৃদয়কে প্রশান্তি দেয়। এটি মনকে হালকা করে, হতাশা দূর করে। কোরআনের তেলাওয়াতের মধুর সুর শুনলে মন শান্ত হয়।

শ্রুতিধ্বনি মস্তিষ্কে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। উদ্বেগ কমায়, দুশ্চিন্তা দূর করে। নিয়মিত তেলাওয়াত শুনলে মনের অবস্থা উন্নত হয়।

মানসিক শান্তির জন্য তেলাওয়াত

তেলাওয়াত শোনার সময় মনোযোগ বৃদ্ধি পায়। এটি মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে। মানুষের হৃদয় তেলাওয়াতে গভীরভাবে সংযুক্ত হয়।

মনোবিজ্ঞানীরা প্রমাণ করেছেন, সুরেলা শব্দ মানসিক শান্তি দেয়। দুশ্চিন্তাগ্রস্ত মানুষ তেলাওয়াত শুনলে স্বস্তি পায়।

দেহ ও মস্তিষ্কের উপর প্রভাব

তেলাওয়াতের সুর দেহের নার্ভ সিস্টেমকে শান্ত করে। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। শরীরের ক্লান্তি কমে, শক্তি বৃদ্ধি পায়।

মস্তিষ্কের আলোর তরঙ্গ নিয়ন্ত্রণে আসে। এটি ঘুমের গুণগত মান বাড়ায়। ফলে হতাশা ও দুশ্চিন্তা কমে যায়।

আধ্যাত্মিক শক্তি বৃদ্ধি

তেলাওয়াত হৃদয়ের আত্মিক শক্তি বাড়ায়। আল্লাহর স্মরণে মন স্থির হয়। এটি বিশ্বাস ও ভরসা বাড়াতে সাহায্য করে।

আধ্যাত্মিক প্রশান্তি হতাশা দূর করে। দোয়ার সঙ্গে তেলাওয়াত পড়লে আশ্বাস মেলে। জীবনের কঠিন সময়ে সাহস দেয়।

হতাশা ও দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তির দোয়া

বিশেষ সূরার পাঠ

বিশেষ সূরার পাঠ হতাশা ও দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তির জন্য অত্যন্ত কার্যকর একটি উপায়। কোরআনের কিছু সূরা আছে যেগুলো পড়লে মন শান্ত হয় এবং হৃদয় প্রফুল্ল হয়। এই সূরাগুলো নিয়মিত পাঠ করলে মানসিক চাপ অনেকাংশে কমে যায়।

অন্যদিকে, বিশেষ সূরাগুলো পড়লে আল্লাহর কাছ থেকে সাহায্যের আশ্বাস পাওয়া যায়। এটি বিশ্বাস এবং ধৈর্য্য বাড়ায়। তাই হতাশার সময় এই সূরাগুলো পড়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

সূরা আল-ফাতিহা

সূরা আল-ফাতিহা কোরআনের প্রথম সূরা এবং সবচেয়ে প্রিয়। এটি পড়লে আল্লাহর রহমত ও করুণা প্রার্থনা করা হয়। হতাশা ও দুশ্চিন্তা কমাতে সূরা আল-ফাতিহার পাঠ খুবই উপকারী।

সূরা আল-ইখলাস

সূরা আল-ইখলাস আল্লাহর একত্বের বর্ণনা দেয়। এটি পড়লে মনের অবস্থা স্থির হয়। হতাশা দূর করতে এবং আত্মবিশ্বাস বাড়াতে এই সূরা পড়া উচিত।

সূরা আল-কাহফ

সূরা আল-কাহফ কঠিন সময়ে আশ্রয় দেয়। এটি নিয়মিত পড়লে বিপদ ও দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। বিশেষ করে শুক্রবার এই সূরা পড়ার বড় ফজিলত রয়েছে।

সূরা আর-রাহমান

সূরা আর-রাহমান আল্লাহর অসীম করুণা ও দয়ালুতার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। এটি পড়লে হৃদয় প্রশান্ত হয় এবং হতাশা কমে। মানসিক শান্তির জন্য সূরা আর-রাহমানের পাঠ অত্যন্ত ফলপ্রসূ।

ইমান ও তাকওয়ার ভূমিকা

ইমান ও তাকওয়া জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে শান্তি ও শক্তি যোগায়। হতাশা ও দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তির জন্য ইমানের গুরুত্ব অপরিসীম। যখন হৃদয় আল্লাহর ওপর দৃঢ় বিশ্বাসে পূর্ণ হয়, তখন মানসিক চাপ কমে। তাকওয়া অর্থাৎ আল্লাহর ভয় ও ত্যাগের মর্ম বুঝে চলা, জীবনে স্থায়ী শান্তি আনে।

ইমান ও তাকওয়া মিলে মানুষের মনোবল বাড়ায়। তারা সব কষ্ট ও সমস্যার মাঝে আল্লাহর সাহায্য আশা করে। এই বিশ্বাস হতাশা দূর করে এবং দুশ্চিন্তার অন্ধকার থেকে মুক্তি দেয়। তাই দোয়া করলে ইমানের সাথে তাকওয়ার মিশ্রণ থাকা জরুরি।

ইমানের মাধ্যমে আত্নবিশ্বাস বৃদ্ধি

ইমান মানুষকে শক্তি দেয়। সে জানে আল্লাহ সব কিছু দেখতে ও শুনতে পান। এই বিশ্বাস দুশ্চিন্তা কমায়। মানুষ নিজেকে একাকী মনে করে না। আল্লাহর সাহায্যের প্রত্যাশায় মনোবল বৃদ্ধি পায়।

তাকওয়ার মাধ্যমে বিপদ এড়ানো

তাকওয়া মানুষকে সঠিক পথ দেখায়। সে পাপ থেকে বিরত থাকে। আল্লাহর প্রতি ভয় ও সম্মান বজায় রাখে। এর ফলে জীবনে শান্তি আসে। মন শান্ত থাকলে হতাশা কমে। দুশ্চিন্তা দূর হয়।

দোয়ায় ইমান ও তাকওয়ার মিলন

দোয়া হল ইমানের প্রকাশ। তাকওয়া যখন সাথে থাকে, দোয়া আরো শক্তিশালী হয়। আল্লাহর কাছে সাহায্যের আবেদন বাড়ে। এই দোয়াগুলো হতাশা ও দুশ্চিন্তা দূর করতে সাহায্য করে। নিয়মিত দোয়া জীবনে আলোর পথ দেখায়।

মানসিক চাপ কমানোর আমল

মানসিক চাপ কমানোর আমল হলো সহজ ও প্রভাবশালী উপায়। মানসিক চাপ কমালে মন শান্ত থাকে। চাপ কমানোর জন্য নিয়মিত কিছু আমল করা জরুরি। এতে হতাশা ও দুশ্চিন্তা অনেকটাই কমে।

প্রার্থনা ও দোয়া মানসিক চাপ কমানোর একটি শক্তিশালী মাধ্যম। পাশাপাশি কিছু সহজ কাজ মানসিক চাপ দূর করতে সাহায্য করে। নিচে কিছু প্রভাবশালী আমল আলোচনা করা হলো।

নিয়মিত তেলাওয়াত

কুরআন তেলাওয়াত মানসিক শান্তি দেয়। সুরা ফাতিহা, সুরা কাহফ পড়া বিশেষ উপকারী। প্রতিদিন অন্তত কিছু সময় কুরআন পড়ার অভ্যাস করুন। এতে মন প্রশান্ত হয়।

দোয়া ও যিকর

হতাশা ও দুশ্চিন্তা কমাতে দোয়া অত্যন্ত জরুরি। “আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল হাম্মি ওয়াল হাযান” এই দোয়া পড়ুন। নিয়মিত যিকর করলে মন স্থির হয়।

স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন

পর্যাপ্ত ঘুম ও সুষম আহার মানসিক চাপ কমায়। ব্যায়াম ও হালকা হাঁটাহাঁটি মনকে প্রশান্ত করে। সুস্থ শরীর মানে সুস্থ মন।

নিয়ন্ত্রণে শ্বাস-প্রশ্বাস

গভীর শ্বাস-প্রশ্বাস নিন। ধীরে ধীরে শ্বাস ছাড়ুন। এই প্রক্রিয়া চাপ কমাতে সাহায্য করে। নিয়মিত এই আমল মানসিক ভারসাম্য রক্ষা করে।

দৈনন্দিন জীবনে প্রয়োগ

দৈনন্দিন জীবনে হতাশা ও দুশ্চিন্তা খুব সাধারণ সমস্যা। এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য নিয়মিত দোয়া পাঠ করা খুব কার্যকর। প্রতিদিন কিছু সময় আল্লাহর কাছে মন থেকে দোয়া করলে মনোবল বাড়ে। এতে মানসিক শান্তি আসে এবং জীবনের বাধা সহজ হয়।

দোয়া শুধু মানসিক স্বস্তি দেয় না, জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সাহায্য করে। কাজের মাঝে, বিশ্রামের সময় বা যেকোনো সমস্যায় এই দোয়া পাঠ করা যেতে পারে। এতে আত্মবিশ্বাস বেড়ে যায় এবং নেতিবাচক চিন্তা কমে।

সকালের শুরুতে দোয়া পাঠ

প্রতিদিন সকালে উঠেই হতাশা ও দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তির দোয়া পড়ুন। এতে দিনটি ভালো কাটবে এবং সমস্যা মোকাবিলা সহজ হবে। নিয়মিত সকালে দোয়া পড়া মনের শক্তি বাড়ায়।

কাজের মাঝে ছোট বিরতিতে দোয়া

দৈনন্দিন কাজের মাঝে বিরতিতে দোয়া পড়া মানসিক চাপ কমায়। কাজের চাপ বেশি হলে কিছু সময় আল্লাহর কাছে সাহায্যের জন্য দোয়া করুন। এতে মন শিথিল হয় এবং চিন্তা কমে।

রাতের আগে দোয়া ও ধ্যান

রাতের আগে হতাশা ও দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তির দোয়া পাঠ করুন। এর পর ধ্যান করলে ঘুম ভালো হয়। রাতে দোয়া করলে মন শান্ত থাকে এবং পরবর্তী দিনের জন্য শক্তি অর্জিত হয়।

পরিবার ও বন্ধুদের সাথে দোয়া ভাগাভাগি

পরিবার ও বন্ধুদের সাথে দোয়া ভাগাভাগি করলে মনোবল বেড়ে যায়। একসাথে দোয়া করলে সবাইকে ইতিবাচক শক্তি দেয়। এই অভ্যাস মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখে।

দুশ্চিন্তা কাটানোর সহজ উপায়

দুশ্চিন্তা আমাদের জীবনের একটি সাধারণ সমস্যা। অনেক সময় ছোট ছোট বিষয় নিয়ে মন অসুস্থ হয়ে পড়ে। দুশ্চিন্তা কাটাতে কিছু সহজ উপায় মেনে চলা যেতে পারে। এই উপায়গুলো মেনে চললে মন শান্ত হয় এবং হতাশা কমে।

নিয়মিত দোয়া ও ইবাদত

প্রতিদিন নিয়ম করে দোয়া করা উচিত। আল্লাহর কাছে মন খুলে কথা বলুন। দোয়া মনের শান্তি এনে দেয়। ইবাদত করলে আত্মবিশ্বাস বাড়ে। মনোবল শক্তিশালী হয়।

সঠিক শ্বাসপ্রশ্বাসের ব্যায়াম

দুশ্চিন্তা কমাতে গভীর শ্বাস নেওয়া জরুরি। ধীরে ধীরে শ্বাস নিন এবং ছাড়ুন। শরীর এবং মন শিথিল হয়। একঘণ্টায় কয়েকবার শ্বাসপ্রশ্বাসের ব্যায়াম করুন।

পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও ঘুম

ঘুম কম হলে মস্তিষ্ক ক্লান্ত হয়। বিশ্রাম কম হলে দুশ্চিন্তা বেড়ে যায়। প্রতিদিন আট ঘণ্টা ঘুম নেয়া উচিত। ভালো ঘুম মানসিক চাপ কমায়।

সুস্থ খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখা

সন্তুলিত খাবার মস্তিষ্ককে শক্তি দেয়। ভিটামিন ও মিনারেল সঠিক পরিমাণে নেওয়া জরুরি। চিনি ও অতিরিক্ত তেলযুক্ত খাবার এড়ানো ভালো। স্বাস্থ্য ভালো থাকলে মন ভালো থাকে।

আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর কৌশল

আত্মবিশ্বাস বাড়ানো জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। এটি মানুষকে শক্তি দেয়, সাহস বৃদ্ধি করে। হতাশা ও দুশ্চিন্তা দূর করতে আত্মবিশ্বাস অপরিহার্য।

নিজেকে বিশ্বাস করলে মানসিক চাপ কমে। কাজের মধ্যে মনোযোগ বাড়ে। এ জন্য কিছু সহজ কৌশল অনুসরণ করা যেতে পারে।

নিজেকে ইতিবাচক কথা বলা

প্রতিদিন নিজের প্রতি ইতিবাচক কথা বলুন। ছোট ছোট সাফল্যকে স্বীকৃতি দিন। এতে মনোবল বৃদ্ধি পায়। নেতিবাচক চিন্তা কমে।

লক্ষ্য স্থির করা

ছোট ছোট লক্ষ্য নির্ধারণ করুন। প্রতিদিন এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করুন। লক্ষ্য পূরণে আত্মবিশ্বাস বেড়ে যায়।

সঠিক সময়ে বিশ্রাম নেওয়া

পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন। ক্লান্তি মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা কমায়। বিশ্রাম আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সাহায্য করে।

দোয়া ও ধ্যান

নিয়মিত দোয়া ও ধ্যান করুন। মনের শান্তি লাভ হয়। আত্মবিশ্বাসের উন্নতি ঘটে।

সফল মানুষের অভিজ্ঞতা শোনা

সফল মানুষের গল্প শুনুন। তাদের অভিজ্ঞতা থেকে শিখুন। অনুপ্রেরণা পেয়ে আত্মবিশ্বাস বাড়ে।

হতাশা ও দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তির দোয়া: সহজ ও কার্যকর উপায়

Credit: www.youtube.com

আল্লাহর আশ্রয়ে শান্তি

আল্লাহর আশ্রয়ে শান্তি পাওয়া মানে জীবনের সব কষ্ট থেকে মুক্তি পাওয়া।

শান্তি খুঁজে পাওয়ার জন্য আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়া খুবই জরুরি।

আল্লাহ আমাদের দুশ্চিন্তা ও হতাশা দূর করতে সাহায্য করেন।

আল্লাহর নাম জপের গুরুত্ব

কোরআনের আয়াত থেকে শান্তির বার্তা

সুরা ফাতিহা ও সুরা ইখলাস পড়লে মন প্রশান্ত হয়।

সুরা কাহাফ ও সুরা ওয়াকিয়া শোনালে দুশ্চিন্তা কমে।

আল্লাহর সাহায্যের জন্য দোয়া

“আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল হাম্মি ওয়াল হাযান” দোয়াটি পড়া উচিত।

এই দোয়ায় দুশ্চিন্তা ও হতাশা থেকে মুক্তি চাওয়া হয়।

হতাশা ও দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তির দোয়া: সহজ ও কার্যকর উপায়

Credit: www.youtube.com

কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর

দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তির জন্য কোন দোয়া আছে?

দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তির জন্য দোয়া: “আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল হাম্মি ওয়াল হাযান. . . ” পড়ুন। কোরআন তেলাওয়াত ও ইমান মজবুত করাও সাহায্য করে।

দুশ্চিন্তা ও মানসিক চাপ দূর করার দোয়া?

দুশ্চিন্তা ও মানসিক চাপ দূর করতে বলুন: “আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল হাম্মি ওয়াল হাযান. . . “। কোরআন তেলাওয়াত ও দোয়া মন শান্ত করে।

কোন সূরা পড়লে মনে শান্তি আসে?

সুরা ফাতিহা, সূরা কাহফ, সূরা ইখলাস ও সূরা ওয়াকিয়াহ পড়লে মনের শান্তি আসে। কুরআনের তেলাওয়াত হতাশা ও দুশ্চিন্তা কমায়। নিয়মিত পাঠ হৃদয়কে প্রফুল্ল করে এবং মানসিক শান্তি দেয়।

কোন বিপদে পড়লে কি দোয়া পড়তে হয়?

বিপদে পড়লে “ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন” দোয়া পড়তে হয়। এটি শান্তি দেয় ও সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে।

হতাশা ও দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি পাওয়ার সহজ দোয়া কী?

দোয়া: “আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল হাম্মি ওয়াল হাযান” পড়লে মন শান্ত হয়।

উপসংহার

হতাশা ও দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি পেতে নিয়মিত দোয়া জরুরি। দোয়া আমাদের মনকে শান্তি দেয় এবং ঈমান শক্তিশালী করে। কুরআনের কথা স্মরণ করে হৃদয় জ্বালিয়ে তোলা যায়। ছোট ছোট পদক্ষেপও জীবনে বড় পরিবর্তন আনে। বিশ্বাস রাখুন, আল্লাহ সবসময় সাহায্যের জন্য রয়েছেন। প্রতিদিন দোয়া পাঠ করলে মনোবল বাড়ে এবং সমস্যা কমে। হতাশা ছেড়ে এগিয়ে চলার শক্তি পেতে দোয়াকে অভ্যাস করুন। জীবনে শান্তি ও সুখ ফিরে আসবে, ইনশাআল্লাহ।

আরো পড়ুন >> আল্লাহর রহমত পাওয়ার উপায়: সহজ ও কার্যকর পদ্ধতি

Check Also

জানাজা নামাজের ফজিলত

জানাজা নামাজের ফজিলত, নিয়মাবলী ও বিশেষ দোয়া সমূহ

সুচিপত্র1 জানাজার নামাজের গুরুত্ব2 জানাজার নামাজের শারীরিক ও আত্মিক গুরুত্ব3 সামাজিক বন্ধন ও সম্প্রদায়ের একাত্মতা4 …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *