চাশতের নামাজের ফজিলত
চাশতের নামাজ বা দোহার সালাত বা সালাতুদ দোহা

চাশতের নামাজের ফজিলত ও উপকারিতা – দিন শুরু করুন বরকতে ভরা ইবাদতের মাধ্যমে

এই পোস্টের মাধ্যমে চাশতের নামাজের ফজিলত সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত পরিসরে আলোচনা করা হবে, আপনারা সকলে গুরুত্ব দিয়ে এই পোস্টটি পড়তে থাকেন ইনশাআল্লাহ অনেক ফায়দা হবে। আমাদের সকলের জানা উচিত যে চাশতের নামাজ মূলত কি জন্য পড়তে হয়। নফল নামাজের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নামাজ হলো তাহাজ্জুদের নামাজ, তাহাজ্জুতের নামাজের পরে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নামাজ হলো চাশতের নামাজ, চাশতের নামাজকে সালাতুদ দোহা ও বলা হয়। চাশতের নামাজ সম্পর্কে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনেক হাদিস আছে। যদিও আমাদের সমাজের সবচেয়ে কম মানুষ এই না নামাজটি আদায় করে। এই পোস্টটি পড়ার পরে আমরা সকলে প্রতিনিয়ত চাশতের নামাজ পড়র চেষ্টা করবো। 

চাশতের নামাজের নামকরণ ও পরিচয়

আরবি ভাষায় চাশতের নামাজকে সালাতুদ দোহা বলা হয়। কেননা দোহা শব্দের অর্থ হলো সকালবেলার সূর্য  ভালোভাবে উঠার পরের সময়। আর বাংলাদেশ সহ আমাদের এই উপমহাদেশে এই নামাজটিকে চাশতের নামাজ নামে সবাই চিনে থাকে।  সকালবেলা সূর্য উদিত হওয়ার কিছুক্ষন পর থেকে যোহরের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত এই নামাজ পড়ার সময়।

এই নামাজ পড়ার মূল উদ্দেশ্য হলো সকালের হাজারো ব্যস্ততার মাঝেও আল্লাহ তায়ালার স্মরণে নিজেকে যুক্ত রাখা। এবং আল্লাহ তাআলার দেওয়া সুস্থ শরীর ও নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করা। সাহাবায়ে কেরাম চাশতের নামাজ আদায় করতেন এটাবিভিন্ন হাদিস থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায়। তাই চাশতের নামাজ ইসলামে গুরুত্বপূর্ণ ও ফজিলত পূর্ণ একটি নফল ইবাদত।

চাশতের নামাজ ও ৩৬০ জোড়ার হাদিসের ব্যাখ্যা

সহি হাদিসে বর্ণিত আছে মানুষের শরীরের মধ্যে ৩৬০ টি জোড়া রয়েছে এবং প্রতিটি জোড়ার পক্ষ থেকে প্রতিদিন সদকা আদায় করা জরুরী। সদকা বলতে শুধু অর্থ দান করাকে বোঝাই না; বরং আল্লাহকে স্মরণ করা, আল্লাহর জিকির আজকার করা, মানুষের উপকার করা, ভালো কথা বলা,ইত্যাদি সবই সৎকার অন্তর্ভুক্ত।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাদিস শরীফে জানিয়েছেন দুই রাকাত নামাজ আদায় করলে শরীরে 360 জোড়ার পক্ষ থেকে সদকার হক আদায় হয়ে যাবে। এই হাদিসকে আলেমগণ ব্যাখ্যা করেছেন চাশতের এই নামাজটি মূলত আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের একটি সহজ পূর্ণাঙ্গ মাধ্যম।যেহেতু আমাদের শরীরের প্রতিটি জোড়ার জন্য আলাদা আলাদা ভাবে প্রতিদিন সদকা করা আমাদের জন্য কঠিন হয়ে যাবে তাই আল্লাহতালা তার বান্দাদের জন্য নামাজকে সে সদকার বিকল্প করে হিসেবে গ্রহণ করছেন। বান্দার জন্য এটি একটি বড় নিয়ম। 

চাশতের নামাজের ফজিলত 

মানুষের শরীরে মোট ৩৬০ টি জোড়া আছে আর প্রত্যেকটি জোড়ার শুকরিয়া আদায় করা মানুষের জন্য অপরিহার্য  ৩৬০ টি জোড়ার শুকরিয়া আদায় হলো প্রতিদিন সুবহানাল্লাহ আলহামদুলিল্লাহ আকবার এইসব জিকির আজকার গুলো আদায় করা। রাসুলুল্লাহ ﷺ জানিয়েছেন, দুই রাকাত চাশতের নামাজ আদায় করলে ৩৬০টি জোড়ার পক্ষ থেকে সদকার হক আদায় হয়ে যায়।।  চাশতের নামাজ এমন একটি নামাজ এই নামাজ পড়লে মানুষের শরীরের ৩৬০ টি জোড়ার শুকরিয়া আদায় করা হয়ে যাবে। 

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সব সময় চাশতের  নামাজ পড়তেন এবং সকল  সাহাবীদেরকে পারার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চাশতের নামাজকে অনেক গুরুত্ব দিয়ে পড়তেন, চাশতের নামাজ হলো ইসলামের নফল নামাজের মধ্যে দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ নফল নামাজ তাই সকালের উচিত চাশতের নামাজ নিয়মিত পড়া, যদিও এখন আমরা অনেক ব্যস্ততার কারণে এই নামাজটা একেবারে ছেড়ে দিয়েছি কিন্তু এই নামাজটা নিয়মিত পড়া আমাদের জন্য অপরিহার্য এবং আমাদের জন্য অনেক কল্যাণকর। 

চাশতের নামাজ নিয়মিত না পড়লে কি গুনাহ হয়?

চাশতের নামাজ হলো একটি নফল ইবাদাত। সেজন্য এই নামাজটি নিয়মিত না পড়লে কোন গুনাহ হবে না, এই বিষয়ে সকল আলেমরা একমত। ফরজ এবং ওয়াজিব নামাজের মত চাশতের নামাজ বাধ্যতামূলক নয়।

সুযোগ সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও যদি কেউ অলসতা করে নিয়মিত নফল ইবাদত থেকে দূরে থাকে, তাহলে সে অনেক ফজিলত ও  অনেক নেকি থেকে বঞ্চিত হবে। চাশতের নামাজ নিয়মিত পড়লে ঈমানকে আরো বেশি মজবুত করবে। এবং আল্লাহ তাআলা সম্পর্কে অন্তর আরো দৃঢ় করবে। তাই আল্লাহ তাআলার নৈকট্য লাভের জন্য এই নামাজ আদায় করা আমাদের সবার উচিত। ধীরে ধীরে অভ্যাসে ঘরে তুললেই এতে স্থায়িত্ব আসে।

আমাদের কর্মব্যস্ততার কারণে আমরা এখন সময়ের অভাবে এই নামাজটি পড়তে পারি না যদি প্রতিদিন পড়তে না পারি, তবে আমাদেরকে একদিন পরপর করে হলেও এই নামাজটা পাড়া জরুরী যদি একদিন পরপর না পড়তে পারি তাহলে অন্তত সপ্তাহে একদিন পড়া কমপক্ষে আর যদি সপ্তাহে একদিন পড়তে ও না পারি তাহলে অন্তত মাসে একবার করে হলেও পড়া। ছুটির দিনে আমাদের সকলের উচিত এই নামাজটি পড়া। 

হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু হতে বর্ণিত তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে অন্তিম সজ্জায় তিনটি ওসিহত করে গিয়েছেন। এক নাম্বার হল  প্রতি মাসে তিনটি রোজা রাখা, দুই নাম্বার হল প্রতিদিন চাশতের নামাজ আদায় করা, তিন নাম্বার হল ঘুমানোর পূর্বে বিতরের নামাজ পড়া। এ থেকে বোঝা যায় যে চাশতের নামাজের গুরুত্ব অপারিশীম কেননা মৃত্যুর পূর্রে অসিহত করে গিয়েছেন নামাজের কথা যে সমস্ত বিষয়গুলো খুব গুরুত্বপূর্ণ সেই বিষয়গুলো মানুষ মৃত্যুর পূর্বে ওসিহত করে যান। আর যেটা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম অসিহত করে গিয়েছেন সেটার গুরুত্ব তো হাজরা গুণ বেশি 

চাশতের নামাজ পড়তে অনীহার কারণ ও সমাধান

অনেক মানুষ নিয়মিত চাশতের নামাজ পড়ার জন্য চাই, কিন্তু নিয়মিত তা আদায় করতে পারে না এর আসল কারণ হলো সকালের কর্মব্যস্ততা অলসতা এবং সময় ব্যবস্থাপনার অভাব। অনেকে মনে করে বেশি রাকাত পড়তে না পারলে এই নামাজের কোন মূল্য নেই ,এটি একটি ভুল ধারণা।

এর আসল সমাধান হলো। প্রথম দিন থেকে কেবলমাত্র দুই রাকাত দিয়ে শুরু করা এবং সময় থাকলে ধীরে ধীরে রাকাত বাড়ানোর চেষ্টা করা। এছাড়াও যে সমস্ত দিন ছুটিথাকবে বা কর্মব্যস্ততা কম থাকবে সেদিন এই নামাজ ভালো করে আদায় করার চেষ্টা করা। আল্লাহ তাআলা নিয়মিত আমল করলেসেটিকে পছন্দ করেনযদিও তা অল্প হয়। আন্তরিকতা ও চেষ্টা থাকলে তৌফিক দান করেন।

চাশতের নামাজ পড়ার সময় 

সূর্য উঠার ১০-১৫ মিনিট পর থেকে জোহরের আগ পর্যন্ত যেকোনো সময় চাশতের নামাজ পড়া যায়।   তবে দ্বি-পহরের সময় কোন নামাজ আদায় করা যাবে না দ্বি প্রহরের সময় নামাজ পড়া হারাম দ্বিপ্রহর হল সূর্য যখন মাঝামাঝি অবস্থায় থাকে ওই সময়টাকে দ্বিপ্রহর বলা হয়। চাশতের নামাজের সর্ব উত্তম সময় হলো সূর্য উদিত হওয়ার একটু পর থেকে উটের বাচ্চা গরম অনুভব করা এই পরিমাণ সূর্য তাপ হাওয়া পর্যন্ত এই সময়টা হচ্ছে সর্ব উত্তম সময়। 

চাশতের নামাজ কত রাকাত পড়তে হয় 

চাশতের নামাজ কত রাকাত পড়তে হয় তা নিয়ে বিভিন্ন মতামত রয়েছে, তবে কমপক্ষে দুই রাকাত পড়তে হয় বেশির কোন সীমা নায় যতটুকু পারা যায়। তবে বিভিন্ন ওলামায়ে কেরাম ১২ রাকাতের কথা উল্লেখ করেছেন। সুতরাং প্রতিদিন আমাদের সাধ্য অনুযায়ী কমপক্ষে দুই রাকাত বা  চার রাকাত করে চাশতের নামাজ আদায় করা উত্তম।

হে আল্লাহ আমাদের সবাইকে প্রতিদিন নিয়মিত চাশতের নামাজ সহ সকল প্রকার নফল ফরজ এবাদত যথাযথভাবে আদায় করার তৌফিক দান করুন। আমাদেরকে অলসতা ও গাফিলতি থেকে হেফাজত করুন। শয়তানের ধোঁকা থেকে আমাদেরকে হেফাজত করুন। আমাদের আমলগুলোকে কবুল করে নিন। আমাদেরকে দুনিয়া এবং আখেরাতে সফলতা দান করুন। আমীন

আরো পড়ুন >>আওয়াবিন নামাজের ফজিলত – দোয়া কবুল, গুনাহ মাফ ও জান্নাত লাভের পথ

Check Also

দ্রুত দোয়া কবুলের আমল: সহজ ও কার্যকর উপায়সমূহ

আপনি কি জানেন, দোয়া কবুলের জন্য কিছু বিশেষ আমল আছে যা আপনার জীবনে আশ্চর্য পরিবর্তন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *